August 9, 2026, 5:22 am
দূরে প্রবাসের ঈদ—নামে উৎসব, আলো, আনন্দ; কিন্তু ভেতরে ভেতরে এটি অনেকের জন্য নীরব মনখারাপের এক দীর্ঘ গল্প। চারপাশে যতই সাজসজ্জা, ব্যস্ততা আর মানুষের ভিড় থাকুক, হৃদয়ের ভেতরটা যেন ফাঁকাই থেকে যায়। কারণ এই আনন্দের দিনে সবচেয়ে বেশি যে জিনিসটা প্রয়োজন, সেটাই থাকে না—নিজের মানুষগুলো।ঈদের সকাল মানেই একসময় ছিল ভোরে ঘুম ভাঙা, নতুন কাপড় পরে নামাজে যাওয়া, বাড়ি ফিরে মায়ের হাতের রান্নার গন্ধে ভরে ওঠা পুরো ঘর। পরিবারের সবাইকে নিয়ে হাসি-আনন্দে কাটানো ছোট ছোট মুহূর্তগুলোই ছিল ঈদের আসল আনন্দ। কিন্তু প্রবাসে সেই চেনা দৃশ্যগুলো আর ফিরে আসে না। এখন ঈদের সকাল শুরু হয় একা ঘুম ভাঙা দিয়ে, পাশে থাকে না পরিবারের কোলাহল, না থাকে সেই পরিচিত উষ্ণতা।প্রবাসের ব্যস্ত শহরে ঈদের দিনটাও অনেক সময় আর দশটা দিনের মতোই লাগে। কাজ, দায়িত্ব আর বাস্তবতার চাপে উৎসবের অনুভূতিটা যেন কোথাও হারিয়ে যায়। চারপাশে অন্যদের হাসি দেখা যায়, কিন্তু নিজের ভেতরের শূন্যতাটা তখন আরও স্পষ্ট হয়ে ওঠে। মনে হয়, ঈদটা যেন নিজের দেশেই রয়ে গেছে, হাজার মাইল দূরে।ভিডিও কলে পরিবারের সাথে কথা হয়, সবার মুখে হাসি দেখা যায়, শুভেচ্ছা বিনিময় হয়। কিন্তু সেই পর্দার আড়ালে লুকিয়ে থাকা দূরত্বটা আরও বেশি কষ্ট দেয়। মায়ের কণ্ঠ শোনা যায়, কিন্তু ছুঁয়ে দেখা যায় না; প্রিয়জনদের হাসি দেখা যায়, কিন্তু পাশে বসে ভাগ করে নেওয়া যায় না সেই মুহূর্তগুলো।প্রবাস জীবনে মানুষ ধীরে ধীরে শিখে যায় নিজের অনুভূতিগুলো লুকিয়ে রাখতে। মন খারাপ থাকলেও হাসিমুখে থাকতে হয়, কষ্ট থাকলেও তা প্রকাশ করা যায় না। কারণ এখানে জীবন চলে দায়িত্বের ওপর, অনুভূতির ওপর নয়। পরিবারের জন্য, ভবিষ্যতের জন্য, নিজের স্বপ্নগুলোকে বাস্তব করার জন্য মানুষ দূরে থাকে—এই ত্যাগটাই প্রবাস জীবনের সবচেয়ে বড় সত্য।তবুও এই কষ্টের মাঝেও একটা আশার আলো থাকে। একদিন হয়তো আবার সেই চেনা ঈদে ফেরা হবে, আবার পরিবারের সাথে বসে একসাথে হাসা হবে, আবার ঈদের সকাল সত্যিকারের আনন্দে ভরে উঠবে। সেই আশাটুকু নিয়েই প্রবাসীরা প্রতিটি ঈদ পার করে দেয়।প্রবাসের ঈদ তাই শুধু একটি উৎসব নয়—এটি একসাথে ত্যাগ, ভালোবাসা, অপেক্ষা আর না বলা অনুভূতির এক গভীর গল্প।— জে পি তালাস